The thirteenth letter “M” is the most powerful and highly valuable letter in English alphabets ! This letter makes many significant word, which are the actual controller as well as very influential things in our earth ! We can’t refuse, we can’t think and even we can’t pass a single moment without the words like, ‘Man’, “Mohammad (S.A)”, ‘Mind’, ‘Mokka’, ‘Modina’, ‘Mosque’, ‘Marriage,’ ‘Manage’, ‘Mary’, ‘Medical’, ‘Medicine’, ‘Muslim’, ‘ Milk’, ‘Miss’, ‘Mirror’, ‘Motion’, ‘Mineral’, ‘Meat’, ‘Market’, ‘Metal’, ‘Majority’, ‘Moon’, ‘Mother’, ‘Machine’, ‘Money’, ‘Male’, ‘Music’, ‘Matter’, ‘Mud’, ‘Molecules’ etc.
Examining the importance of all the above words, whose started with ‘M’… we should say this 13 (Thirteen) number letter of English alphabet is the most necessary, lucky and favorable for every human !!
Please don’t say thirteenth letter ‘M’ or 13 is an unlucky !!


Even a dog, who doesn’t know that, he has to die, but it never preserve a piece of bone for its next meal !
What an excellent food habit !!
Wandering animals, birds or fishes are not unsteady for their day to day meal. Because they have deep faith and they knows, creator will never keep them on starving !
We, human ! What we are doing for our foods ??
Hah Hah Hah Hah Hah !
It seems, our remaining in this earth only for foods !
Human body will be looking most graceful and souls will became unimaginably pure, if they takes foods for their existence only !

Hello Humanity

Presently you have not any permanent shape and class ! For which you got various characteristics in different places ! You are exactly that, what paramount rulers says !
It observed most painfully, Nowadays you are nothing but a name, only a name. Your role for the poor, helpless and different opinion people is extremely discriminate and your acts are madly self-seeking against them. You have single minded devotion to the powerful territories only !
Human hearts knows all about your these activities and they feels shame seeing your mean natures and panic-stricken situations !
Why it is happening ? Have you lost your glory ? Are you feared and running for your own ? Why you bounded by obligations for power and money only ?

আর্তি !

স্বপ্ন দেখতে চাইনা আর
স্বপ্নের কথাও শুনতে চাইনা,
স্বপ্ন-কে ফাঁসি দিয়ে দাও কিংবা
স্বপ্নের মৃত্যূ হোক !


Observe child, adolescent, middle age and old person of our Bangladesh ! What happened to them ??
Look at only their head and hair style !! It seems, they never wash their head and they sleeps keeping their head under pillows !! Rough and uncanny scene !
Whatever they think, but it is actually not comparable to any style nor refer to any grace. For hair style, millions of our country men shaping and cutting hair in various way, using jell-shampoo and what not !!
Does they know, whether it is better for their hair life or not ??
I am afraid that, if they continue these short of treatment, their hair will lost its quality very soon and they will be bald-headed within their middle age !!
What is the necessity of these type of torture to hair ? Is these are the symbol of modernization only ??
Mind it, nature never tolerate any unruly matters !!


Only the earth but different types of land ! Different types of lands but thousands types of herbs and shrubs ! Thousands types of herbs and shrubs but million types of fruits and roots and each of them have different tests ! Even the test differs among the countries !
All the trees and plants roots are under the land.. herein, may be the differences of land only, but they are getting same components from land, from sun, from water and from air, but producing so many colorful and various testy things for us ! Are they produce these only for the cause of meteorological changes ??
Do we ever think the mystery behind this ??
Who direct them to act so ??


পৃথিবীতে ‘মা’ নিয়ে যত লেখালেখি হয়, তার তুলনায় ‘বাবা’ নিয়ে লেখার পরিমান নেই বললেই চলে। পুরুষ বলে মা-কে আমি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছিনা, কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে, মা’র তুলনায় বাবা’র মূল্য তলানীতে পৌছে গেছে ! কেন এমন হচ্ছে ? বাবা সন্তান পেটে ধরেনি বলেই কি ? কিন্তু সন্তান পেটে এলে স্বামীর আনন্দ, স্ত্রী’র সেবা-যতেœ গভীর মনোযোগ, সাধ্যানুযায়ী খাবার, চিকিৎসা সহ স্ত্রী’র প্রতি আবেগ-ভালবাসা, সন্তান ধারনে স্ত্রী’র শারিরীক অবস্থার প্রতি উৎকন্ঠা এবং সার্বক্ষনিক নজরদারী ইত্যাদি একজন স্বামীকেই তো সবচেয়ে বেশী করতে হয়। মহান আল্লাহ্’র বিধান যে, মা’কে-ই কষ্ট ভোগ করতে হবে, নতুবা ; সন্তান প্রসব বেদনার অংশীদারের সুযোগ থাকলে কোন স্বামী-ই তার স্ত্রী-কে সে যন্ত্রনা এককভাবে সইতে দিতনা এটা নিশ্চিত বলা যায়। ঘটনাতো এমনও ঘটে- মা’কে বাঁচাতে চাইলে সন্তান বাঁচবেনা, আবার সন্তানকে বাঁচাতে চাইলে মা বাঁচবেনা- এ রকম পরিস্থিতিতে কোনও স্বামী তার স্ত্রীকে বিসর্জন দিয়ে সন্তান কামনা করেছে- এ নজির বিশ্বে নেই ! তবে এ ধরনের সন্তান বিসর্জনে বাবা’র বা মা’র কষ্ট হয়না তা কিন্তু নয়। বাবা’র ভালবাসা যদি মা’র প্রতি এতটাই বিশাল, এতই মহৎ, তা হলে সংসারে বাবা কি আরও একটু বেশী মনযোগ পেতে পারেনা ? এখনও তো আমাদের সমাজে বাবা-ই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংসারের জন্য উপার্জন করে। এ উপার্জন করার বিষয়টি কি খুবই সহজ। উপার্জন করতে গিয়ে বাবাকে ‘মনিবের শিকল’ পরে, যানবাহনে চড়ে, ভীড়ের চাপে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে অফিস করতে হয়। এরপর বসদের ধমক, কটু কথা, ফরমায়েস এবং কাজের সূত্রে আরও কত রকমের মানষিক ধকল সইতে হয় ! বেতনের টাকায় সংসারের খরচ নির্বাহ না হলে বাবাকে বন্ধু/কলিগদের কাছে গোপনে হাত পাততে হয়। টাকা যোগারে কত রকমের যে গঞ্জনা তা কি বাবা শেয়ার করে ? এমনকি স্ত্রী’র সাথেও কি ? স্ত্রী-সন্তানের চিকিৎসা, শিক্ষার যত সব খরচের টাকা বাবা কোথা থেকে পায় ? দিন শেষে বাবা যখন বাড়ী ফেরে তখন টিভি-সিরিয়াল, লেখা-পড়া ছেড়ে বাবার ঘামে ভেজা শার্ট, ধুলি-মলিন জুতো খুলে দেয়ার সময় কি বাড়ীর মানুষ গুলোর থাকে ? কিংবা থাকে কি কেউ, বাবা কখন ঘরে ফিরবে তার অপেক্ষায় ? তৈরী থাকে কি বাবা’র প্রিয় কোন খাবার ? বরং এক রাশ অভিযোগ, চাওয়া যেন বাবা’র ঘরে ঢোকার অপেক্ষায় সবাই জমিয়ে রাখে। বাবা দু’হাত ভরে বাজার-সদায় নিয়ে ঘরে ফিরলে স্ত্রী-সন্তানদের কত সুখ ! কিন্তু বাবা’র হাত দু’টো কি কেউ ছুঁয়ে দেখে, তাতে কোন কষ্টের দাগ বসে গেছে কিনা !
বাবা তার জীবনের সঞ্চিত সম্পদের উত্তরাধিকারী নির্ধারন করে রেখে যায় কাকে ? স্ত্রী/মা কিংবা সন্তান ছাড়া আর কাউকে কি ?
আসলে এ জগৎ সংসারে বাবা সবার খবর রাখে, কিন্তু বাবার খবর অনেকেই রাখে না। মা কষ্ট পেলে কেঁদে তার প্রকাশ ঘটায়, কিন্তু বাবা’র কষ্ট চিরকালই নিরবে-নিভৃতে থেকে যায়।
“জননীর পদতলে সন্তানের বেহেস্ত” এটি যেমন সত্য, আবার “বাবা’র চেহারার দিকে আদব ও নেক নজরে একবার তাকালে একটি মকবুল হজ্ব ( যে হজ্ব কবুল হয়েছে ) এর ছওয়াব হয়, দিনে যতবার তাকাবে ততটি মকবুল হজ্ব করার” সৌভাগ্য সন্তানের হবে- এটাও সত্য। আর যার একটিও হজ্ব কবুল হয়, সে কি বেহেস্ত এ যাবেনা ?
পৃথিবীতে কিংবা আমাদের দেশে ‘বাবা’ মৃত্যূর হার কত ? আচ্ছা, বাবা-কে কি আরও একটু বেশী শ্রদ্ধা, ভালবাসা দেয়া যায়না ?


১৯৭৮ এ এসএসসি পাশের পর পরই আমি টিউশনি করতে শুরু করি। বাবা ৬৯ এ ইপিআইডিসি’র চাকরী থেকে অবসরে যাবার পর সংসারের আয় ছিল একমাত্র বাড়ী ভাড়া বাবদ ২৭৫ টাকা। ছোট দু’বোন স্কুল পড়ুয়া। সংসারে ভীষন অভাব-অনটন। ৭ সদস্যের পরিবারে জনপ্রতি সকালে-রাতে ০৩ টি করে রুটি, দুপুরে মাপা ১ প্লেট ভাত। টানা পাঁচ বছর এ খাদ্য তালিকার হেরফের হয়নি। যুবক বয়সের সে সময়ে সারাক্ষনই প্রায় ক্ষুদার্থ থাকতাম। অতএব টিউশনী ব্যতিত টাকা উপার্জনের অন্য পথ ছিলনা।

খিলগাঁও তালতলার একটি বাসায় ক্লাস টু’র একটি ছেলেকে দিয়ে টিউশনি শুরু। টিউশন ফি মাসে ৩০ টাকা। জীবনের প্রথম টিউশনীতে আমি কিছুতেই মন বসাতে পারছিলাম না। কারন প্রথমতঃ ছেলেটি ছিল ভীষন আদুরে দ্বিতীয়তঃ পড়ালেখা বিমুখতা। এত ছোট ছেলেকে শাষন করতেও ইতস্ততঃ বোধ করতাম। মেজাজ থাকতো সপ্তমে। ফলে একমাস পড়িয়েই এ টিউশনীতে ক্ষান্ত দিলাম। অবশ্য এ মাসেই খিলগাঁও এ ১০০ টাকার একটি সকালে আর ১৫০ টাকার একটি টিউশনী নয়াটোলা চেয়রম্যান গলিতে বিকাল থেকে পড়ানোর জন্য পেয়ে গেলাম।

তখন খিলগাঁও এ নিজ বাড়ীতে থাকি। আমি সন্ধের পর মগবাজার আম বাগানে ১০০ টাকায় আরও একটি টিউশনী নিলাম। প্রতি টিউশনিতে সপ্তাহে ০৬ দিন পড়াতে হত। অংকে বিশেষ দুর্বলতার কারনে আমার সবগুলো টিউশনিই ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সবগুলোই ছিল ইংলিশ মিডিয়ামের। বিকেল ৩ টায় ঘর থেকে হয়ে কখনও রেল লাইন ধরে, কখনও মালিবাগ বাজার পার হয়ে টিএন্ডটি কলোনীর মধ্য দিয়ে হেটে হেটে নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলিতে যেতাম, আসতাম। কমদামী চামড়ার সেন্ডেল, কখনওবা স্পন্জ এত হাটাহাটিতে বেশিদিন টিকতো না। আর শীত সহ্য করা গেলেও রোদ-বৃষ্টির দিনের কষ্টটা এখনও যেন ষ্পষ্ট অনুভব করি। কাঠের ডাটওয়ালা কাপড় ছেড়া বাসার একমাত্র ছাতাটি নিয়ে বৃষ্টিতে চলতে লজ্জাই লাগতো। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত রুশো – রুমন নামের খুব মিষ্টি চেহারার দু’টি ছেলেকে পড়াতাম। বিকেল পাঁচটার পর ০৬ টা পর্যন্ত কোন কাজ থাকতোনা। সন্ধার পরই যেহেতু কাছাকাছি টিউশনি আর মগবাজার চেয়ারম্যান গলিতেই বড় বোনের বাসা। আমি বড় বোনের বাসায় একবার ঢু মেরে কখনও হোটেলে বসে (পকেটে পয়সা থাকলে) পুরি-চা খেতাম, নয়তো ঘোরাঘুরিতে করতাম। পরে অবশ্য আমবাগানের ‘আজাদ ক্লাব’ ব্যায়ামাগারে ৫ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত ব্যায়াম করে সময়টুকু কাটাতাম। টিএন্ডটি কলোনীর এবং আশপাশের অনেক ছেলেরা ক্লাবটিতে ব্যায়াম করতো। সন্ধার পরপরই আম বাগানে সোহেল নামের মিষ্টি দুষ্টু ছেলেটিকে পড়াতাম। ওদের দোতলা বাড়ীর জানালার পাশে বসে বহু বহু দিন বিষন্ন মনে সূর্যাস্তের নীলিমা, সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখতাম।

বিকেলে রুশো রুমনদের বাসার প্রথম টিউশণীতে প্রতিদিনই নাস্তা এলে প্রথমেই বাবা আর ছোট বোনদের কথা মনে পড়তো। খেতে ভীষন সংকোচ হতো। আর ব্যায়াম করে সন্ধের পর সোহেলদের বাসায় ঢুকেই ওকে ইশারায় পানি আনতে বলতাম। হালকা ঠান্ডাপানির বোতল এলে প্রায়ই বলতাম, ওয়াসা ফ্রী, তাইনা সোহেল ? ও হেসে বলতো ‘একটু পরে নাস্তাও ফ্রী হবে স্যার’। আমি একটু উচ্চস্বরে হেসে উঠতাম। হ্যা, এটা সত্য’ আমি আমার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে আমার ছাত্রদের পড়াতাম। আর ওদের রেজাল্টও হতো ১ থেকে ৩ এর মধ্যে। ৩ টি টিউশনিতে মোট ৪৫০ টাকা পেতাম। সে সময় ঐ পরিমান টাকায় ছোট দুটি বোনের লেখাপড়া এবং সংসারের টুকটাক খরচের জন্য খুবই খুবই প্রয়োজন ছিল। তবে অনেক সময় কষ্ট পেতাম টিউশনীর টাকাটা পেতে দেরী হলে। টিউশনি আর মেজো বোনের দেয়া টাকায় ১৯৮০ এ এইচএসসি পরীক্ষা দিলাম, পাশও পেলাম।

টিউশনী থেকে ফিরতে রাত ৮ টা বেজে যেত। বাবাকে খাটে বসা দেখতাম। বাসায় টিভি, রেডিও কিছুই ছিলনা। বাবা অবশ্য বই কিংবা পেপার পড়তেন, কিন্তু তাই বা কতক্ষন। দু’বার হার্ট এটাক হওয়ার পর তাঁর শারীরিক শক্তিও তেমনটা ছিলনা। কোনদিন ফিরতে রাত ০৯ টা বা তার বেশী হলে বাবা বলতেন, এত দেরি করলি ! বাবার এমন আকুতি ভরা প্রশ্ন শুনে বুকের ভীতরটা হুহু করে উঠতো। বুঝতাম বাবা কত একাকী জীবনের শেষ সময়টুকু কাটাচ্ছেন।

টিউশনির টাকা পেয়ে ছোট বোনদের স্কুলের বেতন, টুক-টাক কেনাকাটা করতাম। তবে রফিকের দোকানের বাকী দিতাম সবার আগে।

এর কিছু দিন পরই ১৯৮৬ এ ছোট ভাই জার্মানী চলে গেল। আমাকে দেয়া বাবার ‘পাওয়ার অব এটর্নির’ বলে টঙ্গির জমি বিক্রি করে ওকে টাকা দিলাম। তবে মনে মনে খুশীও হলাম এই ভেবে, জার্মানী থেকে মার্ক আসবে। জীনস-কেডস পড়বো। টিউশনী আর করবোনা। নাটক করবো। আমার লেখাপড়া আবার শুরু হবে। ছোট বোন গুলো স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া করবে। খাবারের কষ্ট আর হবেনা ইত্যাদি অনেক রঙিন কল্পনার ছবি আকা চললো।

সিলেট থেকে ডিপ্লোমা শেষে বড় ভাইও ৮৬/৮৭ এ কেয়ার এর চাকরীতে টাঙ্গাইল এ পোস্টিং পেল। আমি আরো উত্ফুল্ল। সত্যি সত্যিই ৭৮ থেকে ৮৬ এ দীর্ঘ সময়ে দিনে ৪/৫ টা টিউশনী করে করে ছোট দু’টি বোনের লেখাপড়া করানো, সীমিত টাকায় চাহিদা মেটানো এবং বিভিন্ন টানা পোড়নে আমি চরমভাবে হাপিয়ে উঠেছিলাম। তবে ভাইদের উন্নতি-উত্কর্ষতা ও আশ্বাস সত্ত্বেও আমি ২টি টিউশনী চালিয়ে গেলাম। এরই মাঝে এইচএসসি’র ছয় বছর পর ১৯৮৬ এ পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাশও করলাম।

তার পর দিন কেটে গেল কতইনা দ্রুত গতিতে। জীবনের দৃশ্যপটও পাল্টে যেতে থাকলো যেন তারও চেয়ে দ্রুত।

টিউশনীর সে সময় আর জীবনের সে বিশেষ দিনগুলোর কথা এখনও ভীষন মনে পড়ে। তা নিয়ে ভাবি। ‘টিউশণী’ করা থেকে পাওয়া ‘শিক্ষা’ ( ‘টাকা’ নয় ) আমাকে অনেক শিক্ষার চেয়েও যেন অনেক বড় কিছু শিখিয়েছে। আবার শিক্ষকতার এ মহান পেশা (আমি বলি ‘নেশা’ ) ‘র বর্তমান হাল-চালও দেখি। বাসায় এসে যেসব ছেলে-মেয়েরা পড়ায়, তাদের দিকে গভীর মমতায় চেয়ে থাকি। কত সৎ আর সুন্দর মনের মানুষ হলে ‘বাসায় এসে’ বাচ্চাদের ‘পড়ানো’ !! আহা, এরা কি বাড়ী থেকে খেয়ে বের হয়েছে ? কতদূর পথ হেঁটে, বাসে গাড়ীতে জ্যামে কষ্ট পোহায়ে পড়াতে এসেছে ?! কখন কিভাবে বাড়ী ফিরবে ?! এত প্রতিযোগিতার যুগে, যেখানে ‘স্কুলের শিক্ষক’রাই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, ন্যায়-নীতি-বিবেক বিসর্জন দিয়ে বাসায় ব্যাচের পর ব্যাচ পড়াচ্ছে, সেখানে এসব ‘ক্ষুদে এবং সত্যিকারের শিক্ষক’রাই যেন আমার দৃষ্টিতে বিশাল কিছু হয়ে ধরা পড়ে !! অনেক অনেক ইচ্ছে হয়, বিশাল কিছু করে, এদের কষ্ট যদি মুছে দিতে পারতাম !!

ইচ্ছে হয়, আবার টিউশনির দিনে ফিরে যাই ! যদি যেতে পারতাম !!


বাইরে থেকে দেখা কিংবা অনুভব করা না গেলেও, প্রকৃত সত্য এটাই যে, আজকাল অনেক পিতা-মাতার নিজ বাড়ী-ই তাদের কাছে হয়ে গিয়েছে বৃদ্ধনিবাস।

Unknown Knowledge

Seconds, Minutes, Hours, Days, Years and Ages, which makes `TIME’, is not ours and it is not only `TIME’!
`TIME’ created and summarized by `Almighty Allah’ and it is the the observer and witness of all of our activities.
Future `TIME’ is completely an unknown knowledge and nobody can peeps into it.
Why we are welcoming `TIME’ with joy rather then feeling fear about our sanctioned `TIME’ ?!


With my utmost respect and gratitude, i want to say, it would became completely meaningless if there is no women in this earth !! They made this earth sweet..sweetest !!
What women’s are not ?? Mother, Grand mother, Aunt, Sister, Daughter, Life partner-wife, friend .. !! Every where is the soft touch of women !! Women’s are now the most important and greater part of each organization, round the world ! They are successfully taking part side by side with male person in the space, Head of the state, in the battle field.. !! No doubt, they deserved it !!
Just think, whenever we imagine about of our any sweet relations…. what peeps in our mind ?? That is mostly related with “SHE”.. and it is true we, male person, actually attempt to do any thing for “SHE’S somehow in every steps of our life !!
Hah Hah Hah !!!!……Question may arise , how much they realize it !!
Criticisms are all around about women and there are some basis on it ! Because, now a days, it seems through many activities that, women’s are simply the luxurious or showing matter in our society !! Though, percentage of those type of women is very small, but negative idea is taking strong place in mind regarding all women !! Me personally, differ with the thing and considering real situation, i believe that, women’s only are not responsible for this sort of bad name of them !!
…Some external factors, which influence to make such things happen by women ! I think, that factors may be male’s inciting, modernization of age, media-publications aggression and some lack of sense and frustration on the part of women !!
How to be out from this perception ??

‘মা’ এর কথা

১৯৮৬ সনের ফেব্র“য়ারীতে সারে বার টাকা খরচ করে “চিত্রবাংলা” সাপ্তাহিক এ একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম “বহুদিনের বহু প্রতিক্ষিত ‘মা’ এর অপেক্ষায় আছি”। মা’র মৃত্যুর পর তাঁর অভাবের তীব্রতা আমাকে কেন এতটা উতলা করত তা জানিনা ! আরও অনেক ভাই-বোনের মধ্যে শুধু আমার ভিতরেই মা পাওয়ার ব্যতিক্রমী এ চিন্তা স্বভাবতই পরিবার এবং পরিবারের বাইরের কেও-ই মেনে নেয়নি। টিপ্পনী, বাঁকা চাউনি আর কত প্রকারের মন্তব্য যে আমাকে শুনতে হয়েছে …। যাক যথারীতি বিজ্ঞাপনটি ছাপা হল। সে বছরেরই কোন এক বিকেলে ডাকপিয়ন এসে সরকারী খামের একটি চিঠি আমাকে দিল। বুঝতে পারছিলাম না কোথা থেকে এল। ওপরে প্রেরকের ঠিকানা লেখা নেই। অত্যন্ত কৌতুহল নিয়ে চিটিটা খুললাম। আশ্চর্য ! আমার ‘মা’ হওয়ার প্রস্তাব সুদুর যশোরের নড়াইল থেকে ! বার- বার, বহুবার চিঠিটা পড়লাম। মনের গভীরে ভীষন আলোড়ন আর সীমাহীন গতিতে কল্পনা ! সে কল্পনা কত যে ডালপালা, পাতা, শিরা উপ-শিরা ছাড়িয়ে মহাশূণ্যের কোথায়, কতদুর পর্যন্ত যে ছড়িয়ে পড়ল। টিউশনি, খাওয়া, ঘুম সব ধর্মঘটে গেল। অদম্য আগ্রহ নিয়ে মা’কে লিখতে বসবো ভাবছি, কিন্তু কি লিখবো ! যাক্- গভীর রাতে সাড়ে বার টাকায় পাওয়া অচেনা মা’কে প্রথম পত্র লিখতে বসলাম। কি লিখেছি মনে নেই …। তারপর উত্তর এল, উত্তর গেল। উত্তর একটা এলো তো দু’ টো গেল। ডাকপিয়নের সাথে ভাব হলো ভীষন। নিয়মিত মা’র চিঠি না এলে ভালো লাগতো না কিছুই। ‘মা’র কথা সবার কানে গেলেও আমার একটি মাত্র বন্ধু ছাড়া আর কারও অন্তরে তাঁর তেমন স্থান হলো না। মা’র ঝাপসা একটা ছবি পেলাম। টেবিলের ড্রয়ারে আলাদা করে সযতনে মা’র চিঠিগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে রাখি। মাঝে মধ্যে পুরোনো চিটিগুলো পড়ি। øেহ- ভালোবাসা মাখা মা’র হাতের লেখা প্রগাঢ় শ্রদ্ধা নিয়ে চেয়ে দেখি। মনের মধ্যে শত – সহস্র প্রদীপের আলো জ্বলে। মনের বাগানে লক্ষ-কোটি ফুল-প্রজাপতির মেলা। বাইশ বছর বয়সের সেই আমি ছোট শিশুর মত মায়ের আচলের ছায়ায় মায়ার সময় কাটাই । এ পৃথিবীতে তার চেয়ে প্রিয় আমার আর কেউ রইল না।
প্রায় ছয়মাস এক রকম আচ্ছন্নের মত সময় কাটলো। আমার সমস্ত কাজ, সমস্ত চিন্তার জগৎ জুড়ে ‘মা’ রইল কপালের চন্দন হয়ে। গর্ভে জন্ম না নিয়েও এমন করে ‘মা’ কে ভালোবাসা কোন অভিনয় ছিলনা, ছিল না কোন ছলনা কিংবা অতি ছেলেমানুষী। আমার শূণ্য হৃদয়ের সে আবেগ অনুভূতি নিস্পাপ এ সম্পর্ককে বিবেক বর্জিত বলেও কখনও ভাবেনি।
দেখার প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে অনেক গুলো লেখার পর অবশেষে সে বছরের আগস্টের শেষে অনুমতি পেলাম মা’কে দেখতে যাওয়ার। আমার চাঞ্চল্য, স্পৃহা কিংবা উগ্রতা সবকিছুকে সীমা ছাড়িয়ে গেল। অপূর্ব এক পাওয়ার পরিপূর্ণতার আশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পত্র লিখলাম মা’মনিকে। আমার এ যাওয়া যে কি যাওয়া আর এ যাওয়ার কেমন যে ফল-প্রাপ্তি ঘটবে এ দোলচালে শুধূই মন নিষ্পেশিত হচ্ছিল। তবে ‘মা’, তাঁর বাড়ী কিংবা পারিপার্শি¦ক যেকোন পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র লজ্জা ছাড়া আর কোন বিরুপ চিন্তাই আমার মনে ঠাই পাচ্ছিল না। যাত্রার আগের রাতে মানসিক উত্তেজনা আর অদ্ভূত এক কষ্ট। ভোর ছ’টায় দ্রুতি পরিবহনের গাড়ীতে ছুটে চললাম যশোরের উদ্দেশ্যে। মা’র জন্য কিছুই নেয়া হয়নি শুধুমাত্র সুন্দর একটি চিরুনী ছাড়া।
দুপুরে যশোর পৌছে গাড়ী বদলে নড়াইলের বাসে চড়লাম। যতই ‘মা’র নিকটবর্তী হচ্ছি, আমি হয়ে যাচ্ছি মোহাচ্ছন্ন। আমার বিশ্বের মধ্যাকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু যেন ‘মা’। শেষমেশ নড়াইল-এ নেমে ভ্যানে চড়ে রওনা হলাম মাইজপাড়া, গড়ের ঘাটের উদ্দেশ্যে। সে সময়ে প্রচন্ড গরমে আমি অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে গেলেও মা শীতল পরশ যেন আমার অন্তরে সুশীতল বারিপাত করছিল। নৌকায় একটা ছোট্ট শাখা নদী পার হয়ে মা’র বাড়ির ঘাটে পৌছালাম। ঘাটে বাসন-পেয়ালা মাঝা-ঘষা চলছিল। আমাকে দেখে কাজের মানুষ তার কিছু পানিতে ভাসিয়ে দৌড়ে সংবাদ দিতে পাড়ের ওপরে উঠে গেল। বাড়ীর উঠোনে দাড়িয়ে আমার সতৃঞ্চ নয়ন শুধুই মা’কে খুজছিল। এক মামা এলেন, ঘরে বসিয়ে কথা-বার্তা বল্লেন। ঘরের আশে-পাশের হরেক রকমের মানুষের ফিসফিসানি আমার কানে ভেসে আসছে— অমুকের ছেলে আসিছে, দেইখে যা— মৃদু হাসি, চুড়ির শব্দ। সবমিলিয়ে এক অদ্ভুত শিহরণময় পরিবেশ। আমি অপেক্ষা করছি মা’মনির। বেশ সময় পরে ‘মা’ আমার এলেন। প্রায় বোধ শক্তিহীন আমি ভালো করে ‘মা’কে দেখার আগেই তাঁর পায়ের মাটি কপালে ছোঁয়ালাম। ঘন্টা খানেক পর কিছুটা ধাতস্ত হয়ে কথার ফাঁকে ফাঁকে মা’কে দেখলাম মহাবিশ্বের মহাবিশ্বয় নিয়ে। অল্প-স্বল্প কথাতে জেনে গেলাম ‘মা’ আমার ইংরেজিতে অনার্স পড়ছেন। ছেলেমানুষী/খেয়ালের বসে আমাকে ছেলে বানানোর ঘটনায় তাঁর এ পরিণতি। তবে মা’র লেখায় বা আচরণে সন্তান সম সেনহো-ভালোবাসার বিন্দু মাত্রও কমতি ছিল না। যাক কল্পনা আর বাস্তবের মা’কে নিয়ে সে সময় মুহুর্তে মুহুর্তে আমার হৃদয়ে তাঁর অস্থিত্বের ভাংগা-গড়া চলছিল।
চারদিন কাটালাম মা’র কাছে। নানা-মামাদের আদর-øেহ, আমর মা’র স্বর্গীয় ভালোবাসায় পরিপূর্ণ সে দিন গুলো আজও আমার ফেলে আসা অতীতের শ্রেষ্ঠতম দিন।
চলে আসার সময় বার বার মনে হচ্ছিল মা’র কাছে আমার আত্মার সবটুকু শ্রদ্ধা-ভালোবাসা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু এই ‘মা’ কি চিরদিনের জন্য আমার থাকবে !
ফিরে এসে লিখতে গিয়ে কলম ধরলেও লেখা আর আগের মতো এলো না। কেবলি মা’কে পর পর মনে হতে লাগলো। আর সত্যিইতো ‘মা’ আমার একদিন পর হয়েই যাবে।
লেখা-লেখি কমে গেল। ৮৬ -তে গ্রাজুয়েশন করে আমি বরিশাল, পরবর্তীতে খুলনায় চাকরীতে ৪/৫ বছর কাটালাম। ভাবনা থেকে ‘মা’ কিন্তু কখনও সরে যায়নি। বরং একাকীত্ব, নির্জনতায় আমার সদ্য হারানো অতীত যেন জোনাকীর মতো জ্বলছিল। কি ভেবে হঠাৎ একদিন মা’কে লিখলাম- ‘মা’ তুমি কত কাছে ! উত্তর এলো। রিভিউ মিটিং-এ ঢাকা আসার আগে একদিনের জন্য মা’কে দেখতে গেলাম। নানা, মা খুশী। মা’র লেখা-পড়া শেষ। তাঁর সামনে অজানা ভবিষ্যত। আমার ভিতরে চাপ চাপ অভিমান আর বিষাদ।
বিগত বিশ বছরে দিনে, সপ্তাহে, মাসে- বছরে শত-সহস্র বার মা’কে কতইনা ভেবেছি। স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব- কে মা’র ইতিবৃত্ত শোনাতে গিয়ে কতবার চোখ জলে ভিজে গিয়েছে। কিন্তু ভোলা হয়নি জীবনে ঘটে যাওয়া এ অপরিনামদর্শী কাহিনী..।

Hello Young Guy’s

Take a present picture of your own.. observe it, talk with it.. then guess and draw your appearance of 10, 20, 30 years later and finally draw a face of your old age…!
How do you feel ?
Which one attract you at the most ?
For which you feel greatest love ?
Hah ! Hah ! Hah ! Hah ! Hah ! Hah ! Hah ! Hah !


You , Me , He , She , They ,… Every human and leaders of the states of this earth want peace !!
All we are shouting for peace, peace and peace all the time.. But where is the peace ??
I think, it is just fun for the powerful countries to talk about peace. They are just showing authority and searching benefit of their own in the name of peace !!
We mass people are observing clashes in many places of the world from many years. In a result, civilizations destroyed, people are dieing, homeless, suffering from diseases and craving for their salvation. But where is the humanitarian support for those innocent people ?? Have we have any real solution to mitigate those collisions by the existing powerful leaders ??
Though most of the people of many countries have intention in favor of real peace, but it seems leaders of some state are always against the peace to keep their chair, power and ruling mentality and they are cutting peace inwardly by pieces only !! There is no sacrificing tendency of those states, mainly the leaders of those states to settle their disputes cordially. So `Peace’ is not having any place in this earth actually !
…My be human have to face most dangerous time in the nearest future for the failure of our present world leaders wrong steps !!

Stimulus of Writings

– Distinctive looking.
– Reading and reading.
– Reading with a free mind.
– Intense feeling and deep concentration.
– Listening and listening.
– Good thought and imagination.
– Meditation and different thinking.
– Close observation of human life and to be humane.
– Gathering of knowledge.
– Stroll in the realm of knowledge.
– Some time stay alone with nature.
– A soft mind with full of love.
– Sub consciousness and deep intuition.
– Reminiscence.
– Traveling.
– Silence.
– Speculation.
– Child like curiosity.
– Pain and happiness.


পাঠকের হৃদয় হরন, প্রানকে আন্দোলিত করা কিংবা হৃদয় বিনাষ করার মত বিষয় রচনা করেই লেখক কবি-সাহিত্যিকরা জগৎখ্যাত হয়েছেন। তবে দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব লেখকের, সব লেখাই, সব পাঠকের মন সমানভাবে স্পর্শ করে, এটা সত্য নয়।
লেখকদের রচনা পড়ে ভাবি, ছোট্ট এতটুকু সময়ের জীবনে তাঁদের পক্ষে এত এত লেখা-লেখি কী করে সম্ভব হয় !
মনে হয়, কবি-সাহিত্যিক-লেখক কিংবা শিল্পী সম্প্রদায়ের প্রত্যেকেই অসম্পূর্ন ও অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে এ জগতে আগমন করেন। আর আত্মাকে পূর্ণ বা তৃপ্ত করার জন্যই হয়তোবা তাঁরা নিরন্তন জীবন ও প্রকৃতির অলিগলিতে ঘোড়াঘুরি করে এ সবের নির্যাস আর তাদের অন্তরের কোথা থেকে কী খুজে বের করে এনে সব মিশিয়ে অবাক করা এক একটি কাহিনী রচেন। কালজয়ী সে সব লেখা জনম জনম পুঁজনীয় থেকে পাঠকের অন্তরে আনন্দ-বেদনার কতই না ক্ষত সৃষ্টি করে। অবার কখনও তা মানুষের মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজ বিবর্তনেও ইন্ধন যোগায় ! সে কি মোহনীয় শক্তি লেখনীর !!
লেখা-লেখি করার শখ থাকলেও এত স্বল্প জ্ঞানে সাহিত্যানুরাগী হওয়া ব্যাতিত সাহিত্যিক বা লেখক হওয়া সম্ভব নয় তা অকপট বিশ্বাস করি। এ লেখা, এ যেন শুধু আমার অতৃপ্ত আত্মাকে (!) তৃপ্ত রাখার প্রয়াস মাত্র। তারপরও, নিজের সাথে সাথে এ লেখা যদি অন্য কারও এতটুকুও ভাল লাগে ; ক্ষতি তো নেই ! মানুষের ভালোলাগার বিষয়টা তো স্থির কোন ব্যাপার নয়। নিরন্তন কষ্ট পাই শুধু এই ভেবে, জীবনতো একটাই, আর তা কতই না অল্প সময়ের !

ব্লগ নিয়ে কিছু কথা

‘ব্লগ’ এবং ‘ব্লগার’ শব্দ দুটি আমরা আজকাল হরহামেসা শুনছি। কিন্তু এ সম্পর্কে স্পষ্ট কোন ধারনা আমাদের অনেকেরই নেই। ‘ব্লগ’ ও ‘ব্লগিং’ বলতে ওয়েবসাইটের শুধুমাত্র লেখালেখি-ই বোঝায় না। আর ওয়েব পেজ এ কিছু লিখলেই ‘ব্লগার’ হওয়া যাবে তাও নিশ্চিত নয়।
‘ব্লগ’ শব্দটি খুব বেশি দিনের পুরোনো নয়। ১৯৯৭ সালে জর্ন বার্গার ‘ওয়েবলগ’ শব্দের উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে এপ্রিল-মে, ১৯৯৯ সালে পিটার মারহোলজ্ কৌতুক ছলে “ওয়েবলগ” শব্দটি ভেঙ্গে একে “উই ব্লগ” এ রুপান্তরিত করেন (যা এক প্রকার বাগধার) এবং তার পিটার ডটকম সাইটের সাইড বার এ সন্নিবেশ করেন। এরপর ইভান উইলিয়ামস তার ‘পায়রা ল্যাবস’ এ ব্লগ শব্দটিকে (নাম ও ক্রিয়াবচক হিসেবে) ব্লগার’ হিসেবে ব্যবহার করে পায়রা ল্যাবস এর পণ্যের ধারনা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেন। তবে এর আগে ১৯৯৪ সালে অনলাইন ডায়রী জেরী পোরনিল্লি প্রকাশের মধ্য দিয়ে জাস্টিন হল নামে যুক্তরাষ্ট্রের সোয়ার্থমোর কলেজে অধ্যায়ন এক ছাত্র সর্বপ্রথম একজন ব্লগারের স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ধীর গতিতে ব্লগিং জনপ্রিয়তা পায় এবং ১৯৯৯ পরবর্তী ইন্টারনেটে “হোস্টেড ব্লগ টুল” আসার পর এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। প্রযুক্তিগত উন্নতির কারনে অক্টোবর ১৯৯৮ সালে ব্র“স এবলেসন এর ‘ওপেন ডায়রী’, মার্চ ১৯৯৯ সালে ব্র্যাড ফিটৎজপ্যাট্রিক এর ‘লাইভ জার্নাল’, জুলাই-১৯৯৯ সালে এন্ড্রু স্মেল তৈরীকৃত পিটার ডট কম এর ‘নিউজ পেজ’ এবং অগাস্ট ১৯৯৯ সালে ইভান ইউলিয়ামস ও মেগ হাউরিহান এর ‘ব্লগারস ডট কম’ (২০০৩ সালে গুগল কর্তৃক ক্রয় কৃত) ওয়েবসাইটে “ব্লগিং” এর ভিন্নতা ও নতুন মাত্রা যোগ করে। পরবর্তীতে ‘ব্লগিং ডট কম’ (২০০৩ সালে গুগল কর্তৃক ক্রয় কৃত) ওয়েবসাইটে “ব্লগিং” এর ভিন্নতা ও নতুন মাত্রা যোগ করে। পরবর্তীতে ‘ব্লগিং’ এর জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, ২০১১ সালে অবধি ১৫৬ মিলিয়ন পাবলিক ব্লগ, ২০১২ পর্যন্ত ৭৭ মিলিয়ন টাম্বলার এবং ৫৬.৬ মিলিয়ন ওয়ার্ড প্রেস ব্লগ তৈরী হয়।

বর্তমানে ইন্টারনেটে পাবলিক ব্লগ সংখ্যা টাম্বলার ১০১.৭ মিলিয়ন ব্লগস (৪৪.৬ বিলিয়ন পোস্ট সহ), ওয়ার্ডপ্রেস কম ৬৩ মিলিয়ন ব্লগস, লাইভ জার্নাল ৬২.৬ মিলিয়ন, উইবলি ১২ মিলিয়নের বেশি এবং ব্লগস্টার এর ৫৮২৭৫৪ টি ব্লগস রয়েছে এবং প্রতিদিনই এ সংখ্যা গুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্লগ কি? এর উত্তরে বলা যায়, ব্লগ হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবসাইটে যে কোন বিষয়ের উপর আলোচনা কিংবা তথ্য সম্পর্কিত লেখা লিপিবদ্ধ করা যা বিপরীত কালানুক্রমে বিন্যস্ত থাকে ও প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ সাম্প্রতিক লেখাগুলো প্রথমদিকে এবং পূর্বের লেখাগুলো পিছন দিকে বিন্যস্ত থাকে। উদাহরন হিসেবে প্রথমতঃ অনলাইন জার্নাল কিংবা অনলাইন ডায়রীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এসব লেখা একজন ব্লগার নিয়মিতভাবে আপডেট করতে পারে। এফটিপি’র মাধ্যমে ওয়েব সাইট আপলোড করে তাতে ম্যানুয়ালি হাতে লেখা পোস্ট করে ব্লগ তৈরী ও প্রকাশ করা যায়। সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়ার এর মাধ্যমেও ব্লগিং করা সম্ভব। ২০০৯ সাল অবধি ব্লগিং সাধারনত একক বা ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা ছোট ছোট গ্র“প ভিত্তিক একটি মাত্র কোন বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে লেখা পোস্টিং এর ক্ষেত্রে ‘মাল্টি অথর ব্লগস’ এর উন্মেষ ঘটে এবং এতে একই ওয়েবসাইটে বহু সংখ্যক লেখকের লেখা ও মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যেমন সংবাদপত্র ও অন্যান্য মিডিয়া, ফেসবুক, টুইটার, মাইক্রোব্লগিং ইত্যাদি সাইটগুলো সামাজিক তথ্য আদান প্রদানের কাজে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্লগ সাইট গুলোতে মন্তব্য প্রকাশ এবং এর মাধ্যমে মেসেজ আদান প্রদানের সুযোগ থাকায় ব্লগার এবং পাঠকদের এমনকি অন্যান্য সাইটের সাথে লিংক, সম্পর্ক এবং সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে।

ব্লগার কে? এর উত্তর সহয়ে বলা যায়, যে বা যারা ব্লগ লিখেন কিংবা ব্লগের জন্য লিখেন তারা-ই ব্লগার। তবে ব্লগ সাইটে ক্রিয়েটিভ রাইটার হিসেবে লেখার সুযোগের পূর্ব শর্ত হিসেবে ইন্টারনেট এ নিজস্ব ব্লগিং সাইট, ব্যাকরন ভূল মুক্ত ইংরেজী দক্ষতা এবং অনেক ক্ষেত্রে নমুনা যাচাই ও কখনও কখনও কাঙ্খিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বিশেষতঃ ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্ক ইত্যাদি সাইটে ফিকশন গেস্ট, ক্রিয়েটিভ, কপি রাইটিং, টাইপিং ইত্যাদি বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বিড করে ব্লগারদের অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্কুইডো, আর্টিক্যাল টেইলার, ইহাহু কনট্রি বিউটির নেটওয়ার্ক, ব্লগিং ডট অর্গ, ডিজিটাল জার্নাল, এবাউট কম ইত্যাদি সাইটে ব্লগিং ও এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

ব্লগ কত প্রকার ?
০১। পার্সোনাল ব্লগিং (পরিবার, ভ্রমন, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, সংগীত)
০২। বিজনেস (যে কোন প্রকার ব্যবসা-বানিজ্য, শিল্প)
০৩। স্কুল (স্কুল, কলেজ, বিশবিদ্যালয়, ছাত্র-শিক্ষক, লেখাপড়া)
০৪। নন-প্রফিট (ফাউন্ডেশন, চ্যারিটি, মানবাধিকার গ্র“প, শিক্ষা, চিকিৎসা, গণিত, শিল্প, সাহিত্য, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষনা)।
০৫। পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক দল, সরকারী প্রতিষ্ঠান, এক্টিভিস্ট)।
০৬। মিলিটারী (সামরিক বাহিনী)।
০৭। প্রাইভেট (ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, পারিবারিক বা অন্যকোন সম্পর্ক)।
০৮। স্পোর্টস (সব ধরনের খেলাধুলা, দল, ফ্যানস)।
০৯। হাউ-টু, টিপস এন্ড রিভিউ (বিভিন্ন অজানা বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা, রান্না, গান, বই, মুভি)

বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশীদের কিছু ব্লগ সাইট বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এবং বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে। এর মধ্যে সালমান খান এর ‘খান একাডেমি’ (বিল গেটস যেটি প্রায়শঃই ভিজিট করেন) বিশ্বনন্দিত।

বর্তমান বিশ্বে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবসাইটে ব্লগ বা ব্লগিং সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের পরিচিতির জন্য এক বিশাল বি¯তৃত এবং সহজতর মাধ্যম হিসেবে ব্যাপক ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ব্লগিং মানুষের চিন্তা ভাবনা, কথা, মতামত প্রকাশের এক অভাবনীয় স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, যা আজ সর্বজন স্বীকৃত।